অতীতে অবৈধ কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের কোনো নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়া হবে না : চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সদা প্রস্তুত।
শুক্রবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ সাটু অডিটরিয়ামে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যমান আইনের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো কাজ করতে পারে না। সুতরাং যে আইন আছে, সেভাবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর পিআর পদ্ধতির দাবি ও এনসিপির প্রতীকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, বিষয়টি নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যেসব নির্বাচন কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অবৈধ কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন, আসন্ন নির্বাচনে তাদেরকে নির্বাচনী কোনো দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হবে না।
কর্মশালার উদ্বোধনকালে নির্বাচন কমিশনার জুলাই আন্দোলনের কথা স্মরণ করে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন— একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভোট কেন্দ্র। ভোট কেন্দ্রগুলোতে যারা প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে কাজ করবেন তাদের ওপরই নির্ভর করছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। একজন প্রিজাইডিং অফিসার হচ্ছেন একটি ভোট কেন্দ্রের টিম লিডার। আপনাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। ভোট নিয়ে গিয়ে কোনোভাবেই কারো বাড়িতে ঘুমানো বা খাওয়া যাবে না। কারণ এতে কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে পড়বেন।
তিনি বলেন— নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই নির্বাচন কমিশন আইনের কাছে দায়বদ্ধ, আর কারো কাছে নয়। সুতরাং, আপনি যখন ভোটগ্রহণের কাজে নিয়োজিত হবেন তখন আপনি আইনের কাছে দায়বদ্ধ। সুতরাং নির্বাচন সংক্রান্ত আইন-কানুন সঠিকভাবে আপনাদের জানতে হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনকে কলুষিত করার জন্য দুষ্টচক্র বিভিন্ন ধরনের প্রপাগান্ডা চালাবে, বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়াবে, সেই গুজব থেকে সাবধান থাকতে হবে। যদি কোনো সমস্যা হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ, পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিবিটিইপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও উপপ্রধান (উপসচিব) মুহাম্মদ মোস্তফা হাসান।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
দ্য ব্যালট অ্যান্ড ড্রিপ প্রকল্পের সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে সিবিটিইপি প্রকল্প এবং বাস্তবায়ন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস।
এসময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজাদুল হেলালসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী নির্বাচনের অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।