শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ক্ষুধার আকাশে অগ্নিবিন্দু
আব্দুস সালাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কুয়াশায় ভাসে
একটা পুরনো তারিখ ১৯ ডিসেম্বর।
তার কাঁধে ঝুলে থাকে চোখের নদী
চাপা-পড়া অজানা চোখের নদী,
যেন বহু রাত্রির পর্দা ছিঁড়ে
উঠে আসে বিস্মৃত স্বপ্নের ছায়া স্রোত।
তখন প্রয়াস,
অন্ধকারের ঘুম-ফাটা দেয়ালে
প্রথম আলোর দধিমণ্ড ছোঁয়—
ঝলমলে ইচ্ছেরা শিরায় শিরায় কাঁপে
তারা পোড়ার মতো কাঁপে ইচ্ছেরা
যেন অচেনা দিগন্তে ঝুলে থাকা
অগ্নিকণার গোপন উড়ান।
মানুষের ক্ষুধা, অধিকার, স্বপ্ন
সবনিয়ে সে দাঁড়ায়
গলে যাওয়া নরম মশাল হয়ে
যেন ফেরেশতার ডানায় লেগে থাকা
প্রাচীন রোদের স্ফুলিঙ্গ—
ভাঙা পেনসিল তখন শুধু চিহ্ন নয়
সমুদ্রগর্ভে লুকোনো কালো নাবিকের আলো।
কাগজে লেখা প্রতিটি শব্দ জন্ম দেয় শিশুঢেউ
ঢেউয়ের শরীরে ফুটে ওঠে অসীম স্পন্দন
নারীর চোখে, শিশুর হাঁটুর বাঁকে
আর যুবকের কণ্ঠের আগুনে—
প্রবীণের কাঁথার নিচে ধীরে জমে ওঠে
জ্বলন্ত রোদের সোনালি রেখা
অন্ধকারের ঠোঁটে অগ্নিমুখী রোদচিহ্ন
যেন দূর কোনো সাগর হৃদয়ে ঢেউ তোলে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আকাশে জ্বলছে
মৌন মানচিত্রে জেগে ওঠা চিরন্তন অগ্নিবিন্দু
যেমন নবজাতকের প্রথম কান্না
মায়ের বুকের নরম ছায়ায় আলোর পাহাড়—
জনসমুদ্রে তখন জ্বলে ওঠে এক উষ্ণ প্রতিশ্রুতি
সময় ছাপের বুক জুড়ে।
অদৃশ্য নাবিকের লেখামন্ত্র
যেখানে যাত্রা, ক্ষুধা, আলো
সব মিলে মিশে যায় অগ্নিস্রোতের ভেলায়।

শেয়ার করুন