চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিলাবৃষ্টি : ৭১৬৪ হেক্টর জমির আম-ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আংশিক ক্ষতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আম ও বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী এই শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় আমের গুটি ঝরে পড়ার পাশাপাশি শিলার আঘাতে আম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ধান, ভুট্টা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলায়।
কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় শিলাবৃষ্টিতে আংশিকভাবে ৭ হাজার ১৬৪ হেক্টর জমিতে আমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ এই বৃষ্টিকে আম ও ধানের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। বৃষ্টির ফলে আমের গুটির ঝরে পড়া অনেকাংশেই কমে যাবে বলে জানান আমচাষি ও কৃষি বিভাগ। বাড়তি সেচ দিতে হবে না।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একদিনের শিলাবৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫৫ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বোরো ধান ১৯৫ হেক্টর, আম ১৫৬ হেক্টর, সবজি ও পান ২ হেক্টর করে ক্ষতি হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আম ৪ হাজার ৮৭৫ হেক্টর, বোরো ধান ৮৪১ হেক্টর, সবজি ৭৩ হেক্টর ও ভুট্টা ২৫ হেক্টর ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে নাচোল উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আম ২০০ হেক্টর, বোরো ধান ২০০ হেক্টর, সবজি ৫০ হেক্টর ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও গোমস্তাপুর উপজেলায় ৫৪৫ হেক্টর জমির ফসলের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বোরো ধান ৩০০ হেক্টর, আম ২২০ হেক্টর ও সবজি ২৫ হেক্টর।
জানা গেছে, সদর উপজেলার গোবরাতলা, বারোঘরিয়া, মহারাজপুর, বালিয়াডাঙ্গা, সুন্দরপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর, মনাকষা, কানসাট, বিনোদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি বেশি হয়েছে।
সদর উপজেলার আমচাষি গোলাম মোস্তফা জানান, এ সময় বৃষ্টির দরকার ছিল। বৃষ্টি আমের গুটির জন্য খুবই উপযোগী। কারণ বৃষ্টির পানি পেয়ে আমের গুটি এখন দ্রুত বাড়বে এবং আমের গোড়া শক্ত হবে।
তবে মঙ্গলবারের শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতিও হয়েছে বলে জানান তিনি। অনেক আম ঝরে পড়েছে, এই শিলার আঘাতে গাছে থাকা বেশ কিছু আমের ক্ষতি হবে।
গোলাম মোস্তফা বলেন, আজ বুধবার সকাল থেকে গুটি আমগুলো ঝরে পড়া রোধে স্প্রে করা শুরু করেছি।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ধান পুরোপুরি এখনো পোক্ত হয়নি। তাই খুব বেশি ক্ষতি না হলেও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে মাটিতে নূইয়ে পড়েছে ধানগাছ। এতে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হবে। এমনকি ফলন কমে যাবে। তবে বৃষ্টির পানি এই মুহূর্তে ধানচাষের জন্য ভালোই হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, মঙ্গলবার ভোলাহাট বাদে বাকি চার উপজেলায় বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও হালকা ছোট আকারের শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে ৭ হাজার ১৬৪ হেক্টর জমিতে আমসহ বিভিন্ন ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
ড. ইয়াছিন আলী আরো জানান, মঙ্গলবার বিকেলে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯. ৪ মিলিমিটার। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ মিলিমিটার, শিবগঞ্জ ১৩ মিলিমিটার, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৬ মিলিমিটার নাচোল ৮ মিলিমিটার ও ভোলাহাট- উপজেলায় ৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়।