শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বছরে গড়ে দেড় কোটি টাকা বকেয়াই থাকছে পানির বিল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় পানির বিল বছরে গড়ে দেড় কোটি টাকা বকেয়া থেকেই যাচ্ছে। পানি থেকে বকেয়া ও হালসহ প্রতি মাসে গড় আদায় ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। বকেয়ার পরিমাণ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে ৩০ লাখ ৭২ হাজার টাকা। আর প্রতি মাসে ২ লক্ষাধিক টাকা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
জানা গেছে, পৌরসভার পানি শাখার অধীনে ৭০ জন জনবল কাজ করেন। মোটা অঙ্কের টাকা পানির বিল বকেয়া থাকায় তাদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে মাথার ওপর বোঝা হয়ে রয়েছে বিদ্যুৎ বিল। প্রায় ১০ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভাকে। তবে এরই মধ্যে ১০ লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পৌরসভার পানির সোর্স হচ্ছে ভূগর্ভস্থ ও ভূউপরিস্থ পানি। ২৬টি গভীর নলকূপ ও ১টি শোধনাগারে পানি শোধন করে ২ লাখ ১০ হাজার জন গ্রাহককে সরবরাহ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয় ৩০ লক্ষাধিক টাকা। আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণীর গ্রাহককে পানি সরবরাহ করে পৌরসভার আয় হওয়ার কথা ৪২ লাখ টাকা। কিন্তু মোট গ্রাহকের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করেন না। এর মধ্যে ৬ শতাধিক গ্রাহকের পানির বিল বকেয়ার পরিমাণ ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিল বকেয়া আছে এমন গ্রাহকের সংখ্যা ২০ জনেরও অধিক।
পানির সংযোগ গ্রহণকারী আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে মিটার আছে ১৩ হাজার ৫০০ জনের এবং মিটার ছাড়া গ্রাহক আছেন ৭ হাজার ১৫১ জন। এছাড়া বাণিজ্যিক মিটার আছে ১৯১টি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের আয়তন হচ্ছে ২৪.৬০ বর্গকিলোমিটার। এই আয়তনে বাস করে ৬৩ হাজার ৩১১টি পরিবার। মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার ২০০ জন। পানি সরবরাহের আওতায় মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজার জন। এই জনসংখ্যার জন্য প্রতিদিন ২৭ হাজার ৭৪১ ঘনমিটার পানির চাহিদা থাকলেও সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ দিতে পারছেন ১৯ হাজার ৩৪১ ঘনমিটার পানি। ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ৮ হাজার ৪০০ ঘনমিটার।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ গৌড় বাংলাকে বলেন— সাধারণ গ্রাহকসহ অনেক রথী-মহরথীরাও দীর্ঘদিন ধরে পানির বিল পরিশোধ করছেন না। বিষয়টি আগামী জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করা হবে। ওই সভা থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
নিয়মিত পানি সরবরাহ পেতে হলে নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করতে হবে পানির গ্রাহকদের। তাহলে ভবিষ্যতে শতভাগ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দিকে এগিয়ে যাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা। এজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে— এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

শেয়ার করুন