শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে-এমন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই ধরনের নারীর মূল লক্ষ্য থাকে-অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার তথ্য গোপন রেখে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নবজাতকের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। ট্রাম্প এই ইস্যুটিকে সামনে এনেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে লিখিত অধিকার রয়েছে তা সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা এক অভ্যন্তরীণ ই-মেইল থেকে জানা গেছে, অভিবাসীবিষয়ক মার্কিন সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সারা দেশের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নতুন এক ‘বার্থ টুরিজম ইনিশিয়েটিভ’ বা জন্ম পর্যটনবিরোধী পদক্ষেপে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো-সেই সব চক্রকে নির্মূল করা, যারা অন্য দেশের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসতে সহায়তা করে যাতে তাদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পায়। এর আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প বৈধ কিংবা অবৈধ অভিবাসন কমানোর জন্য আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে রীতি প্রচলিত আছে, তা বন্ধ করার পেছনে তার প্রশাসন এই ‘বার্থ টুরিজম’ বা জন্ম পর্যটনকেই যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে নারাজ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানান, এভাবে অবাধ জন্ম পর্যটন করদাতাদের ওপর বিশাল বোঝা তৈরি করছে এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেয়ার নিয়ম নেই। এ বিষয়ে চলমান কোনো তদন্ত নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মার্কিন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। তবে তারা জানিয়েছে যে, কিছু চক্র জন্ম পর্যটনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে সহায়তা করছে-এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেয়া বেআইনি কিছু নয়। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ফেডারেল আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনগুলো শনাক্ত ও মোকাবিলায় ডিএইচএস সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

শেয়ার করুন