নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হলেই তাদের ক্ষমতায়ন ঘটবে
হার পাওয়ার প্রকল্পের কর্মশালায় জেলা প্রশাসক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে হার পাওয়ার প্রকল্পের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা নারীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অলোচক ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। এ সময় তিনি নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হলেই তাদের ক্ষমতায়ন ঘটবে বলে মন্তব্য করেন। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পরিবারে সিদ্ধা গ্রহণ করেন পুরুষ। কেননা পুরুষ আয় করেন আর নারীরা ঘর সামলাতেই ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু নারীরাও যদি আয় করেন, তাহলে পরিবারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নারীরাও ভূমিকা রাখতে পারবেন। তখন সমাজের চেহারাটা অন্যরকম হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন- নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সরকার যথেষ্ট সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কারণ দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী, সেই অর্ধেক জনসংখ্যাকে পেছনে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আপনারা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যে জ্ঞান আহরণ করেছেন তা ভালোভাবে কাজে লাগাবেন। নিজেদের উন্নতির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবেন ইন্নশাআল্লাহ।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা আক্তার। সূচনা বক্তব্য দেনÑ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের আইসিটি অফিসার সুবর্ণা নাসরিন, আইসিটি অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইসিটি অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেওয়ান মো. নূরজ্জামান।
কর্মশালায় জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার ৫৮০ জন নারীকে কয়েকটি বিষয়ে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে উইমেন আইটি সার্ভিস প্রোভাইডার কোর্সে ২৪০ জন, গ্রাফিকস ডিজাইনে ১২০ জন, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ৬০ জন ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ৬০ জন এবং উইমেন কল সেন্টার এজেন্ট কোর্সে ২৫ জন ও উইমেন ই-কমার্স প্রফেশনাল কোর্সে ৭৫ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তারা সকলেই এখন যে যার মতো করে কাজ করছেন।
কর্মশালায় এনায়েত ফৌজিয়া নামের এক তরুণী তার বক্তব্যে জানান, ফ্রিল্যান্সিং করে তিনি প্রতি মাসে ৪০০ ডলার আয় করছেন।
এছাড়াও ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবরিনা ইয়াসমিন ও উম্মে আয়মান।