নৈতিক শিক্ষায় শিশুদের গড়ে তুলতে হবে : শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক কর্মশালায় জেলা প্রশাসক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের ভূমিকা শীর্ষক ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কর্মশালা-২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম-৬ষ্ঠ পর্যায়, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় এ কর্মশালার আয়োজন করে।
বুধবার জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইকতেখারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা।
মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম-৬ষ্ঠ পর্যায়, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার উপ-প্রকল্প পরিচালক (মাঠ সেবা) মদন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন বৃষ্টি হালদার। কেন্দ্র শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন সৌরব দাস। সূচনা বক্তব্য দেন মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোমা রায়।
কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন বিষয়ে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সুপারিশ উঠে আসে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক শিশুদের নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন— অতীতে আমাদের হুজুররা কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা দিতেন। নৈতিক চরিত্র গঠনের প্রাথমিক জায়গাটাই ছিল মক্তব। তিনি বলেন— শিশুরা কাদামাটির মতো, তাদেরকে যেভাবে গড়ে তোলা হবে, তারা সেভাবেই গড়ে উঠবে। বর্তমানে মক্তব নেই, তবে আমরা চাই মসজিদে মসজিদে আবার যেন মক্তব চালু করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি মসজিদে এই কার্যক্রম চালু আছে, সকল মসজিদে কিন্তু নেই। একইভাবে মন্দিরভিত্তিক যে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম তাও নির্দিষ্ট কিছু মন্দিরে রয়েছে। এই কার্যক্রমকে যদি আমরা সকল মন্দিরে ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলে আমাদের সনাতন ধর্মের মানুষ নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। তাদের সন্তানেরা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
কর্মশালার বিষয়বস্তু উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন— আসলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না, যদি আমরা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে না পারি। কাজেই নির্ধারিত পাঠদানের পাশাপাশি শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দিয়ে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।
সূচনা বক্তব্যে সোমা রায় জানান, সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর নাচোল উপজেলায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র ৩০টি, শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র ৭টি এবং বয়স্কদের ৯টি শিক্ষা কেন্দ্র আছে। প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষার্থী রয়েছে ৯০০ জন, ধর্মীয় শিক্ষায় ২১০ জন ও বয়স্ক শিক্ষার্থী রয়েছে ২৭০ জন।