পদ্মা বাঁচাতে শিবগঞ্জে বিএনপির সমাবেশ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ—১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি ঘোষিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা বলেছেন, ভারত শুষ্ক মৌসুমে পানি বন্ধ করে দেয়। আর বর্ষার সময় সমস্ত গেট খুলে দেয়। ফলে আমাদের কৃষি কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। তাই পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার পদ্মার ন্যায্য পানি বণ্টনের দাবিতে শিবগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এই এমপি একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন— সামনের দিনে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে, আমাদের নদীকে বাঁচাতে হবে, দেশকে বাঁচাতে হবে। এজন্য আমরা তারেক রহমানের নেতৃতত্বে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি বলেন— আগামী নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনে আমাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আপনারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের জন্য ভোটের প্রচারণা চালাবেন।
সমাবেশ প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন— সামনে নির্বাচন, আগামী নির্বাচনে আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করতে চাই। আমরা ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে যেতে চাই। কারণ, বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই ফারাক্কা ব্যারেজ। এই ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশে নাম হওয়া এই পদ্মা অববাহিকার সমস্ত নদী শুকিয়ে গেছে। দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ ফারাক্কা অববাহিকার পানি বৃদ্ধির জন্য ভারতের সঙ্গে আমাদের পানি বণ্টন চুক্তি করেছি কিন্তু আশানুরূপ কোনো ফল পাইনি। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পানি সংকট সমাধানের জন্য গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৫ হাজার কোটি টাকার এই গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে এনেছিলেন। সমীক্ষা জমা দিয়েছিল ২০০৯ সালে। এরপর ক্ষমতায় এসেছিলেন ভারতের দালাল শেখ হাসিনা ওয়াজেদ। তারপরে সেই সমীক্ষা চলে গেছে অন্ধকারে।
হারুনুর রশীদ আরো বলেন, ভারত আমাদের সঙ্গে বরাবরই বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছে। শুধু ফারাক্কার পানি নয়— বাংলাদেশের অভিন্ন নদীর পানিও প্রত্যাহার করেছে। সীমান্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে। জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতা অকাতরে প্রাণ দিয়ে হায়েনা সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদেরকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি দুর্যোগময় সময়ে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যাদের সঙ্গে আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি তারা বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে অন্ধকারে চলে গেছে। আগামীতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে কিনা আমি বলতে পারব না। কারণ তারা এদেশের মানুষের ওপর গত ১৫ বছর জুলুম-অত্যাচার চালিয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, গুম করেছে, এদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে আরেকটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তারা আমাদের সঙ্গে নির্বাচন করে বারবার পরাজিত হয়েছে।
শিবগঞ্জ মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সহসম্পাদক সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম। শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক তসিকুল ইসলাম তসি, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তোসিকুল আলম, ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন শিবগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম।
এদিকে শিবগঞ্জ সরকারি মডেল হাই স্কুল মাঠে দুপুর থেকেই নেতাকর্মীরা ধানের শীষে ভোট চেয়ে মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। নেতাকর্মীরা দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশস্থলে জায়গা না পেয়ে স্কুলের বিভিন্ন ছাদে অবস্থান নেন। অনেক নেতাকর্মীকে ধানের গুচ্ছ নিয়ে মাঠে দেখা গেছে।
সমাবেশে অন্য বক্তারা নদী ও পানিসম্পদ সংরক্ষণ, ন্যায্য পানি বণ্টন এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকাকে প্রভাবিত করা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরিবেশ ও জনস্বার্থে জলবণ্টনের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন তারা।