শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পদ্মা মহানন্দায় চলছে তীব্র ভাঙন বাখের আলীতে উড়ে গেছে বাঁধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে সবকিছু। বাখের আলীতে বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ নদীগর্ভে চলে গেছে।
জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার হড়মা, পোল্লাডাঙ্গা, বাখের আলী ও নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর, গাইপাড়া, আইয়ুব বিশ্বাসের ঘাট এলাকা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। পোল্লাডাঙ্গা ও রঘুনাথপুরে ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। একদিকে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে পরদিনই বালুভর্তি ব্যাগ ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখানে এরই মধ্যে প্রায় ৯০ মিটারজুড়ে বাঁধ ভেঙে গেছে।
এদিকে বাখের আলীতে পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সিসি ব্লক দিয়ে নির্মিত বাঁধ তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন এলাকা গ্রাস করছে সর্বগ্রাসী পদ্মা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, পদ্মা নদীর বামতীর ও ডানতীর মিলে অন্তত ১০ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন চলছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলার হড়মা ও গোমস্তাপুর উপজেলার ব্রজনাথ এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম ভাঙনের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহীনুর আলম জানান, এবার পদ্মা নদীর ভাঙনে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পদ্মা নদীর ভাঙনে কবলে পড়ে ২৪০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া ৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর ঘরবাড়ি ছাড়াও ফসলি জমি, আমগাছসহ অন্যান্য গাছপালা, মসজিদ, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন— ভাঙন ঠেকানোর জন্য কিছু কিছু জায়গায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আজ ফেলছি তো কালকেই ভেঙে যাচ্ছে। তবেও আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন