শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পাউবোর প্রকল্প গ্রহণ
জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমেও পাওয়া যাবে পানি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াগোলা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে নয়াগোলা খাল এবং নবাব খালের ২টি প্রবাহপথ ও রেল বরোপিট বরাবর মোট সাড়ে ১২ কিলোমিটার খাল খনন কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন করা।
“চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পৌর এলাকার নবাব খাল, নয়াগোলা খাল এবং রেলওয়ের বরোপিট খনন বা পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন” শীর্ষক প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশন, কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ, সেচ উইংয়ে এরই মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় খাল খনন ছাড়াও ৮টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত। প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।
এই খালগুলোর খনন কাজ ও কালভার্টগুলো নির্মাণ শেষে ওই এলাকায় আবাদি জমি ও ফল বাগান বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রকল্পের পটভূমিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্য দিয়ে অতিক্রমকারী খালগুলোর মধ্যে নবাব খাল ও নয়াগোলা খাল দ্বারা সৃষ্ট প্রবাহপথ দীর্ঘতম। যার দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার। নবাব খালটির প্রবাহপথের মোট দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার এবং নয়াগোলা খালটির প্রবাহপথের মোট দৈর্ঘ্য সাড়ে ৫ কিলোমিটার। নবাব খালটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উত্তর ভবানীপুর মৌজার চাঁপাই-আমনুরা রাস্তা এবং নয়াগোলা খাল কল্যাণপুর মৌজার নয়াগোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ হতে উৎপন্ন হয়ে মহাভাঙ্গা, বিদিরপুর, আলীনগর ও কালুপুর মৌজা দিয়ে রুহুল বাঁধ নামক স্থানে অতিক্রম করে শিয়ালা মৌজায় মহাডাঙ্গা খালে পতিত হয়েছে। মহাডাঙ্গা খালটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান হয়ে মোট ৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মহানন্দা নদীতে পতিত হয়েছে।
১৯৮০’র দশক থেকেই পৌর এলাকার নবাব খাল ও নয়াগোলা খাল নানা কারণে প্রবাহপথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিসিক ও আতাহার এলাকার অটোরাইস মিলের বর্জ্য ফেলা, খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ, পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি পতন দ্বারা খালগুলোর প্রবাহপথ ভরাট হতে শুরু করে। বর্তমানে ২টি খালেরই প্রবাহপথ সংকুচিত হয়ে স্থানে স্থানে নর্দমার মতো আকার ধারণ করেছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির ফলে পৌরসভার নয়াগোলা এলাকায় এবং আতাহার অঞ্চলে চাঁপাইনবাগঞ্জ-আমনুরা রাস্তাটিতে বর্ষার পানির সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সাথে নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী নওগাঁ, জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা, কল্যাণপুর, ফকল্যান্ড মোড়, বিজিবি এলাকা, পুলিশ লাইন, বিসিক এলাকা, আতাহার, মহাডাঙ্গা, বিদিরপুর, আলীনগর, গণকা, শিয়ালা কলোনির একাংশের ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল- কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট সহ নিকটবর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে ওসব এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দূষিত পানিতে ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ বংশ বিস্তারের কারণে এলাকার জনসাধারণ ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও খালের নাব্যতা না থাকায় খালের প্রবাহ পথদ্বয়ের পানি ধারণক্ষমতা কম, বিধায় ওই এলাকার কৃষি কাজ ব্যাহত হয়। অপর দিকে বরেন্দ্র অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে প্রবল খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। এ অঞ্চলের স্বাভাবিক গড় উচ্চতা বেশি হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে খাল, বিল, নদী, নালা, পুকুর, জলাশয়ে পানি না থাকায় অধিক খরার সৃষ্টি হয়। খরায় পানির অভাবে মাঠের ফসলাদির উৎপাদন ব্যাহত হয়। উপরন্তু ভূপৃষ্ঠ পানির উৎস না থাকায় ওই এলাকায় কৃষি কাজের জন্য এলাকাবাসী মূলত অধিক মূল্যের ভূগর্ভস্থ পানি এবং ক্ষেত্র বিশেষে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সমবায়ী সেচ প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল। এ কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মানুষের আর্থিক, সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত পরিবেশের আশ্রয় স্থলসহ জলবায়ু ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় উল্লেখিত জলাবদ্ধতা ও খরা রোধ করার লক্ষে নবাব খাল ও নয়াগোলা খাল পুনঃখনন কাজ এবং বিদিরপুর কালভার্ট হতে মহানন্দা রেল ব্রিজ পর্যন্ত রেলওয়ে বরোপিটের মাধ্যমে নয়াগোলা খাল ও নবাব খালের সংযোগ স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

শেয়ার করুন