প্রথম পর্যায়ে ২২০৬৫ জনকে দেওয়া হবে কৃষক কার্ড : কৃষিমন্ত্রী

সারাদেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদপুর মারুফ স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।
রবিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই দেশের কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম পুরোধা গণতন্ত্রের রক্ষক বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গঠন করা।
তিনি জানান, কৃষি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে জমির মালিকানা অনুযায়ী কৃষককে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে— ভূমিহীন কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক ও বড় কৃষক।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। কার্ড বিতরণ কার্যক্রম তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে— প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং ও দেশব্যাপী কার্যক্রম গ্রহণ।
মন্ত্রী জানান, প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণের জন্য নির্বাচিত আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি কৃষি ব্লক হচ্ছে— পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলায় নেসারাবাদ উপজেলায় রাজাবাড়ী ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালনন্দ উপজেলায় তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভীবাজার জেলায় জুড়ি উপজেলায় ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক ও জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক।
মন্ত্রী বলেন, এই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষি প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষিগণকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।
কৃষক কার্ড সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখাসমুহে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের সকল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮৯৬ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ জন ও বড় কৃষক ৫১ জন।
মন্ত্রী বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকগণকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে বার্ষিক নগদ সুবিধা প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, কার্ডের মাধ্যমে কৃষকগণ প্রণোদনা ও সেবা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট ডিলারের নিকট সরবরাহকৃত পিওএস প্রিন্ট সেল মেশিন ব্যবহার করে সার বীজ মৎস্য, প্রাণী ও খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবে।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা জেলা আদর্শ সদর উপজেলা অরুণ্যপুর ব্লক বাদে দেশের বাকি নয়টি ব্লকে একই দিনে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি স্মার্ট ডাটাবেজের আওতায় আসবে। সারের অপচয় রোধ ও চাহিদামাফিক ফসল উৎপাদন, সর্বোপরি কৃষকের ক্ষতিপূরণ সরকারের নজরে আনতে এই কার্ড সহায়ক হবে।