শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা

২০২৪ সালে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। দুটি শুমারির মধ্যে (২০১৩ থেকে ২০২৪) অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে।
মঙ্গলবার অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর ন্যাশনাল রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইউনিটের উল্লেখযোগ্য ফলাফল
পল্লী ও শহর উভয় এলাকাতেই অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বৃদ্ধি : ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারি অনুযায়ী পল্লী এলাকায় মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮টি এবং শহর এলাকায় ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৪টি। অন্যদিকে ২০১৩ সালে পল্লী এলাকায় অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ছিল ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৯টি এবং শহর এলাকায় ২২ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৬টি। সে বিবেচনায়, পল্লী এবং শহর উভয় এলাকাতেই অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্য ও ঢাকা বিভাগের শীর্ষস্থান : মোট অর্থনৈতিক ইউনিট ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টির মধ্যে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ৬২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫৭টি (৫৩.৫৭ শতাংশ), অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯৬৯টি (৪.৯১ শতাংশ) এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসম্পন্ন খানা ৪৮ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৬টি (৪১.৫২ শতাংশ)। বিভাগভিত্তিক উপাত্ত বিবেচনায় দেখা যায়, সর্বাধিক ২৭.০৮ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিট ঢাকায় এবং সর্বনিম্ন ৪.৬৭ শতাংশ সিলেটে অবস্থিত। এছাড়া চট্টগ্রাম ১৭.৫১ শতাংশ, রাজশাহী ১৪.৩৬ শতাংশ, খুলনা ১২.৭৩ শতাংশ, রংপুর ১১.৪১ শতাংশ, ময়মনসিংহ ৬.৬৩ শতাংশ ও বরিশালে ৫.৬১ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিটের অবস্থান।
সংখ্যা বিবেচনায় মাইক্রো ও কুটির শিল্পের প্রাধান্য : মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে মাইক্রো শিল্পের সংখ্যা ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮২টি (৫৬.৬৭ শতাংশ) এবং কুটির শিল্পের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯টি (৩৮.৭৪ শতাংশ)। এছাড়া, ক্ষুদ্র শিল্প ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩২৩টি (৪.২০ শতাংশ), মাঝারি শিল্প ৩৬ হাজার ১১২টি (০.৩১ শতাংশ) এবং বৃহৎ শিল্প রয়েছে ৯ হাজার ২৮৬টি (০.০৮ শতাংশ)।
স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত / পারিবারিক মালিকানার ইউনিট সর্বাধিক : ব্যক্তিগত / পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিষ্ঠান (৮৭.৩৬ শতাংশ)। এছাড়া, ৫৪ লাখ ৭৭ হাজার ২৪টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দেশের মোট স্থায়ী ৪ লাখ ৬৯৬টি (৬.৩৯ শতাংশ), সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৯৪টি (২.২২ শতাংশ), প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৬টি (১.৮২ শতাংশ) এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত ৯০ হাজার ৫২২টি (১.৪৪ শতাংশ) প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বিবেচনায় সেবা খাতের প্রাধান্য : দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটসমূহের মধ্যে সেবাখাতের অন্তর্ভুক্ত ইউনিটের সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৩টি (৯০.০২ শতাংশ) এবং শিল্প খাতের ইউনিটের সংখ্যা ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪৯টি (৯.৯৮ শতাংশ)।
অর্থনৈতিক ইউনিটে নিয়োজিত মোট জনবল বৃদ্ধি : অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী দেশের সব অর্থনৈতিক ইউনিটে নিয়োজিত মোট জনবল ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন, যা ২০১৩ সালে ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। এ থেকে দেখা যায়, ২০১৩ সালের চেয়ে ২০২৪ সালে জনবল ২৫.০৩ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী মোট জনবলের ৮৩.২৮ শতাংশ পুরুষ (২ কোটি ৫৫ লাখ ১১ হাজার ৬৫২ জন), নারী ১৬.৭১ শতাংশ (৫১ লাখ ১৯ হাজার ২৭১ জন) এবং হিজড়া ০.০১ শতাংশ (১ হাজার ৭৩৮ জন)।
স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে জনবলের আধিক্য : অর্থনৈতিক ইউনিটে নিয়োজিত মোট জনবলের ৭৭.৫৩ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে, ২.৫৪ শতাংশ অস্থায়ী প্রতিষ্ঠানে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসম্পন্ন খানায় ১৯.৯৩ শতাংশ নিয়োজিত রয়েছে।
পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান ও মোটরসাইকেল মেরামত খাতের বিস্তৃতি : অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর ইউনিটসমূহের মধ্যে সর্বাধিক ৪১.৮২ শতাংশ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান ও মোটরসাইকেল মেরামত খাতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া অন্য খাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— পরিবহন ও মজুত ২২.২২ শতাংশ, উৎপাদন খাত ৯.৫৭ শতাংশ এবং আবাসন ও খাদ্যসেবা কার্যক্রম ৮.১১ শতাংশ।

শেয়ার করুন