মাইলস্টোনোর শিক্ষার্থীরা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলেন

দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়েছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কলেজের ৫ নম্বর ভবনে অবস্থান করছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মঙ্গলবার বেলার পৌনে ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নিয়ে ফিরে যেতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একারণে আমরা ফিরে যাচ্ছি।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে ৫ নম্বর ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে আসিফ নজরুল বলেন, আপনাদের দাবির সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। আপনারা যে দাবিগুলো করেছেন, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিচ্ছি— আপনাদের সব দাবি মেনে নেব। অভিভাবক হিসেবে আমরা সহানুভূতি জানাতে এখানে ছুটে এসেছি। কোমলমতি যারা প্রাণ হারিয়েছে, অবশ্যই তাদের প্রকৃত অবস্থা জানানো হবে। কতজন শহীদ হয়েছেন, কতজন আহত হয়েছেন প্রকৃত তথ্য জানানো হবে।
তবে শিক্ষার্থীরা তার বক্তব্য প্রত্যাখান করলে তিনি আবার ভবনের ভেতরে চলে যান। এর কিছু সময় পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে ৫ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, মাইলস্টোন স্কুলে একটি তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে নিহত ও আহতের তথ্য থাকছে। কেউ নিখোঁজ থাকলে সে তথ্য থাকছে। এখান থেকে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। নিহত ও আহত পরিবারের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ট্রমা ম্যানেজমেন্ট সাপোর্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনগণের ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাবাহিনীর কর্তব্য পালনকালে কয়েকজন সেনাসদস্য শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সেনা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
জনবহুল এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান না চালানোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিমানবাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও আইন উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের জানান।
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার শিক্ষার্থীদের বলেন, ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ নিয়মিত পরীক্ষা শেষে ঘোষণা করা হবে।
শিক্ষার্থীদের ৬ দাবি হলো— ১. দুর্ঘটনায় নিহতদের সঠিক নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। ২. আহতদের নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ৩. ঘটনাস্থলে শিক্ষকদের গায়ে সেনা সদস্যদের ‘হাত তোলার’ অভিযোগে নিঃশর্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ৪. নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৫. বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিমান বাতিল করে নতুন ও নিরাপদ প্লেন চালু করতে হবে এবং ৬. বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ এলাকা মানবিক ও নিরাপদভাবে পুনর্বিন্যাস করতে হবে।