যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে : গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান

যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার পূর্বাচলের জুলাই-৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফুট) স্থাপিত গণসংবর্ধনায় দেওয়া বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকলে মিলে এই নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদেরকে যে কোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যে কোনো উস্কানির মুখে আমাদেরকে শান্ত থাকতে হবে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই।’
তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে ইনশাল্লাহ নিরাপদে ঘরে আবার ফিরে আসতে পারবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, ৫ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা রয়েছে এই রাষ্ট্রের কাছে। এই মানুষগুলোর একটি আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই— তাহলে আমরা এই লাখ-কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।’
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে রাজধানীর পূর্বাচলে লাখো মানুষের সমাবেশ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান স্মরণ করেন মার্টিন লুথার কিংয়ের অমর বাণী। সেই অমর বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’।
দেশবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিং— নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো আপনারা? মার্টিন লুথার কিং, তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে— ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান; ফর দি পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’
তিনি বলেন, আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য; যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়— এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি— যত মানুষ উপস্থিত আছেন; প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে।
তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেই ঢাকার পূর্বাচলে ৩০০ ফুট সড়কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে দলের পক্ষ থেকে নির্মিত মঞ্চে তিনি ১৬ মিনিট বক্তৃতা করেন।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও আবেগের সঞ্চার হয়। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং সর্বজনীন প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাগম।
তারকে রহমান বলেন, ‘সন্তান হিসেবে আমার মন মায়ের বিছানার পাশে হাসপাতালে পড়ে রয়েছে। কিন্তু যে মানুষগুলো এবং যার জন্য আমার মা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’
তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এ দেশের মাটি ও মানুষকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। মায়ের সুস্থতার জন্য তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, এই দেশে একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব— যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির অবদানের কথা স্মরণ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি হাদিকে স্মরণ করে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। ওসমান হাদি চেয়েছিলেন, এ দেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছে, ২৪-এ যারা শহীদ হয়েছে, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তরে দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।’
গণসংবর্ধনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এছাড়া মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় সমাজাতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারীসহ অনেকে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য শেষ করেই মা খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান তারেক রহমান।