শীতপোশাক কিনতে বাড়ছে ভিড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। দিনের বেলায় তাপমাত্রা বেশি থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই জেঁকে বসছে ঠাণ্ডা। রাতের বেলায় কুয়াশাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকালের দিকে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলতে দেখা গেছে। এদিকে ঠাণ্ডাজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
আর প্রতিবছরের মতো এবারো ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই জেলাশহরের শহীদ সাটু হল মার্কেটের সামনে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ভবনের পেছনে ও রেলস্টেশনের ফুটপাতে পুরাতন শীতের পোশাক নিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। বিক্রেতারা নানান ধরনের সোয়েটারসহ অন্যান্য পোশাক নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকছেন। এসব ভাসমান দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।
শহীদ সাটু হলে মার্কেটের সামনে ফুটপাতে পুরাতন শীতের পোশাক বিক্রেতা মো. সেন্টু জানান, তিনিসহ অন্যরা সরাসরি চট্টগ্রামসহ সান্তাহার, নাটোর ও রাজশহী থেকে পুরাতন শীতের পোশাক কিনে আনেন। তিনি জানান, শিশুসহ বয়স্কদের সোয়েটার ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম রয়েছে। যেগুলো নতুনের মতো, সেগুলোর দাম আরেকটু বেশি। তবে দাম গতবারের মতোই রয়েছে। বর্তমানে দিনের তাপমাত্রা বেশি থাকায় বেচাকেনা এখনো জমেনি বলে জানান সেন্টু।
অন্যদিকে নিউমার্কেটের সামনের ফুটপাতসহ মার্কেটগুলোতেও নতুন শীতের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে। ফুটপাতের দোকানে তো বটেই, অভিজাত মার্কেটেও শীত পোশাক কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি— মার্কেটের চেয়ে ফুটপাতের দোকানে নিম্নআয়ের মানুষ ভিড় করছেন বেশি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীত আরো বাড়লে বেচাকেনা দ্বিগুণ হবে। এখন প্রতিদিন বিকেলে বিক্রি বেশি হচ্ছে। শীত তীব্র হলে সারা দিনই ব্যস্ত থাকতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নভেম্বরের প্রথম দিক থেকেই হালকা শীত শুরু হয়। ডিসেম্বরের চলতি সপ্তাহে কিছুটা বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সকালে রোদ থাকলেও বাতাস ঠাণ্ডা। সন্ধ্যার পর দ্রুত তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। অনেকেই এ সময় শীতের পোশাক পরে বাসা থেকে বের হচ্ছেন।
এদিকে শহরের নিউমার্কেটের সামনে ফুটপাতে বসা বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সব দোকানেই রয়েছে ছোট-বড় সব ধরনের ক্রেতা। এসব দোকানে সব বয়সের ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে বয়স্কদের বাহারি শার্ট, হাফ বা ফুল সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, টুপিসহ উলের গরম কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। এখন ফুটপাতগুলোতে বড়দের চেয়ে ছোটদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে বেশি।
তবে শীতের গরম কাপড়ের মূল্য বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ ক্রেতা। অবশ্য দোকানিদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ভিন্ন কথা।
গরম কাপড় কিনতে আসা অটোরিকশা চালক নূর আমিন জানান, অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। এই শীতে গরম কাপড় ছাড়া চলা দায়। তাই কাপড় কিনতে ফুটপাতের দোকানে এসেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আরেক ক্রেতা রাজু আহমেদ বলেন, কয়েকটি দোকান ঘুরে ১ হাজার ১০০ টাকায় একটি জ্যাকেট কিনলাম। তবে বাজারের অভিজাত দোকানে কিনতে গেলে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা লাগত।
কয়েকদিন আগে কথা হয় গৃহিণী খাদিজা নামের এক ক্রেতার সেঙ্গ। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শীত বেড়েছে। তাই বাচ্চাদের পোশাক কিনতে এসেছি। দরদাম করে দেখছি, ভালো লাগলে কিনব।’
ফুটপাতের বিক্রেতা মিলন বলেন, আমি প্রায় ১০ বছর ধরে হাটে হাটে শীতের পোশাক বিক্রি করতাম। বর্তমানে নিউমার্কেট ফুটপাতে বসে প্রায় ৩ বছর ধরে শীত মৌসুমে শীতের পোশাক বিক্রি করছি। শীত যত বাড়বে, বিক্রিও তত বৃদ্ধি পাবে। সাড়ে ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে মিলছে শীতের পোশাক। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে থেকেই ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো পোশাক কিনছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ভৌগোলিক কারণে জেলায় শীত নামে অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। আর এই শীতের মৌসুমে জেলাজুড়েই জমজমাট বাণিজ্য হয় শীতের পোশাকের। বাইরে থেকেও অনেক ব্যবসায়ী আসেন, জেলার ফুটপাতে শীত পোশাকের ব্যবসা করার জন্য। শীতের পোশাককে ঘিরে জেলার অর্থনীতিতেও একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।