যোগাযোগযন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ইরান রেভ্যুলুশনারি গার্ডসের

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তার সব সদস্যকে যেকোনও রকম যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর পেজার ও ওয়াকিটকিতে একযোগে বিস্ফোরণের পর সাবধানতা স্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল সোমবার এ খবর জানিয়েছে। ওই দুই কর্মকর্তার একজন বলেছেন, যোগাযোগে ব্যবহৃতসহ সবরকম যন্ত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে আইআরজিসি। এসব যন্ত্রের অধিকাংশই হয় দেশে উৎপাদিত অথবা চীন ও রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত। গত মঙ্গলবার, লেবাননে হিজবুল্লাহ সদস্যদের প্রায় তিন হাজার পেজার একযোগে বিস্ফোরিত হয়েছে। পরদিনই আবার কয়েকশ’ ওয়াকি-টকি বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৯ জন নিহত ও তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে হামলা হিসেবে অভিহিত করছে লেবানন ও হিজবুল্লাহ। দু’পক্ষ থেকেই এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হচ্ছে। অবশ্য হামলায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি ইসরায়েল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, দেশে ইসরায়েলি গোয়েন্দার অনুপ্রবেশ ও ইসরায়েলের কাছে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ইরানিদের নিয়েও চিন্তিত আইআরজিসি। এজন্য মধ্য থেকে উচ্চ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর তদন্ত চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘দেশে ও দেশের বাইরে, নজরদারিতে থাকা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব, তাদের ভ্রমণের ইতিহাস, এসব তথ্যও পর্যালোচনা করা হবে। কর্মকর্তার দাবির সত্যতা যাচাই করতে পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে রয়টার্স। তবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার সদস্যের আইআরজিসি বাহিনী কীভাবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ নিশ্চিত করছে, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আপাতত এ- টু এ- এনক্রিপশন ব্যবহার করে বার্তা পাঠাচ্ছি।’ ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিস্ফোরিত বেশ কিছু যন্ত্রাংশ তেহরানে পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সেগুলো পরীক্ষা করে দেখছেন।