শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নাচোলে বসতভিটা ফিরে পেতে চায় ১৫ রবিদাস পরিবার

ক্ষতিপূরণসহ ৫ দফা দাবি সংবাদ সম্মেলনে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বাপ-দাদার আমল থেকে বসবাস করে আসা বসতভিটা ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন এবং নাগরিক উদ্যোগ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নাচোল উপজেলার থানাপাড়ায় খাস খতিয়ানভুক্ত একটি জমিতে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছিলেন ১৫টি রবিদাস পরিবার। গত ৪ মে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই পুলিশের উপস্থিতিতে ১৫ পরিবারের কাঁচা ও আধাপাকা বাড়িঘর ভেঙে দেয়া হয়। এমনকি সেখানে থাকা একটি মনসা দেবীর মন্দিরও ভেঙে দেয়া হয়। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে পলিথিন টাঙিয়ে বসবাস করছে পরিবারগুলো।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ১৯৯৭ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সরাইকান্দি গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের স্ত্রী মমতাজ বেগম জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেন। ২০০৬ সালে ওই মামলার রায় হয় ভূমিহীন রবিদাস পরিবারগুলোর পক্ষে। পরবর্তীতে জেলা জজ আদালতেও বাদী মমতাজ বেগমের আবেদন নামঞ্জুর হয়ে যায়। এরপর তারা উচ্চ আদালতে যান। উচ্চ আদালতে আপিলের কোনো তথ্যই জানতে পারেননি জমির দখলে থাকা রবিদাস পরিবারগুলো। ফলে রায় চলে যায় মমতাজ বেগমের পক্ষে। যদিও গত ২২ মে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশন ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত জমিটি ভূমিহীন রবিদাস পরিবারগুলোকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, উচ্ছেদের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ৫ দফা দাবি জানানো হয়।
নাচোল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ সহায়তা করেছে মাত্র।

শেয়ার করুন