কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বদরুদ্দীন উমরকে শেষ শ্রদ্ধা

প্রথিতযশা লেখক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরের মরদেহ সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়।
সেখানে একে একে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান সাহিত্যিক, রাজনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, বদরুদ্দীন উমরের বিদায়ের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সমাপ্ত হলো। তিনি যে আদর্শ ও দর্শনের ধারক ছিলেন, সেই দর্শনের আলোকে তাঁর বিশ্লেষণ ইতিহাসে অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, আদর্শবাদী ও আপসহীন ব্যক্তিত্ব। তাঁর অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভূত হবে। তবে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশক হয়ে থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়াও এই ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করতে ছুটে আসেন— এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, কবি ও লেখক ফরহাদ মজহার ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ খালেকুজ্জামান।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমরের চির প্রস্থানে দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার কারণে গত রবিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে দেশের বুদ্ধিজীবী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।