সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকদের ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবি

স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেড বাস্তবায়নসহ ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বিকেলে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৫ উপলক্ষে এই মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা।
নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, সরকারি মাধমিক সহকারী শিক্ষকের এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা, অনতিবিলম্বে আঞ্চলিক উপপরিচালকের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সংরক্ষণ এবং মাধ্যমিকের সকল কার্যালয়ের স্বতন্ত্র ও মর্যাদা রক্ষা, বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার সকল শূন্যপদে নিয়োগ প্রদান, পদোন্নতি ও পদায়ন, বকেয়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেলের মঞ্জুরিকৃত আদেশ প্রদান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নাচোল খ.ম. সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন— স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. শফিউল আজম, স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাসিস) রাজশাহী অঞ্চলের সভাপতি এ জেড এম শামিউল হক।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা এবং এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি রাজশাহী অঞ্চলের কোষাধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দীন।
সঞ্চালনায় ছিলেন স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা এবং এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক লিনস হাঁসদা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত জনতার সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরো বলা হয়, শিক্ষা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার করা সরকারের অন্যতম কাজ বলে প্রধান উপদেষ্টা এরই মধ্যে ঘোষণা করেছেন। এতে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষার মেরুদণ্ড, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক-কর্মকর্তাগণ আশান্বিত হয়েছেন।
আরো বলা হয়, সরকারি মাধ্যমিকের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষকের জন্য পদোন্নতিযোগ্য পদ মাত্র ৪ শতাংশ। যৌক্তিক কোনো পদসোপান না থাকায় দীর্ঘ ৩২/৩৩ বছর চাকরি করেও অধিকাংশ শিক্ষককে পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যেতে হয়। পদোন্নতি অনিয়মিত বিধায় বেশকিছু পদ খালি পড়ে থাকে। যা পদোন্নতিবঞ্চিতদের হতাশ করার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। সরকারি মাধ্যমিকে শিক্ষক-কর্মকর্তাগণ প্রাপ্য বকেয়া টাইমস্কেল, পদমর্যাদা, পদোন্নতি, পদায়নসহ চাকরির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সরকারি মাধ্যমিকে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসন জরুরি।
এই মতবিনিময় ও সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে জেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করেন।