শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অপরাধীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না : সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বাসে আগুন লাগানো বা বোমা বিস্ফোরণে জড়িত কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এতে ভয়ের কিছু নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো আশঙ্কা নেই। এতে ভয়ের কিছু নেই। প্রকৃত অপরাধীরা যাতে জামিন না পায়, এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
যারা বাসে আগুন লাগিয়েছে তারা অপরাধী উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং জনসাধারণসহ সবাইকে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক অপরাধমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাস্তার পাশে পরিবহন জ্বালানি বিক্রি কয়েকদিনের জন্য বন্ধ রাখা হবে, কারণ দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ বা অন্যান্য কাজে এসব তেল ব্যবহার করতে পারে।
বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমা বিস্ফোরণ বা আকস্মিক বিশৃঙ্খল মিছিল প্রতিরোধে গোয়েন্দা সংস্থার কোনো ব্যর্থতা রয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোনো গোয়েন্দা ব্যর্থতা নেই। এ পর্যন্ত কোনো বড় মিছিল হয়নি।
সোমবার পুরনো ঢাকার একটি হাসপাতালের গেটে গুলি করে হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে। এর আগে চট্টগ্রামে একই ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, লুট হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দেশে অপরাধীদের প্রবেশ রোধ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ ঠেকাতে এবং দেশের ভেতরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিজিবি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অগ্রগতিতে অন্তর্বর্তী সরকার সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৫০ হাজার আনসার সদস্য এবং প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।

শেয়ার করুন