ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি : রোগীদের ভোগান্তি

সারাদেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জেও ১০ম গ্রেডের দাবিতে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিকে তারা এই কর্মবিরতি পালন করেন। এতে বন্ধ হয়ে যায় রোগ নির্ণয়ে সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৫০ শয্যাবিশষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে সকাল ৯টায় ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করেন।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন— মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট সমন্বয় পরিষদের মুখ্য সংগঠক গোলাম ফারুক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সভাপতি মো. রেজাউল করিম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরামের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সভাপতি আল মামুনসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টগণ রোগ নির্ণয় ও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ সেবাদান কার্যক্রমে তারা সম্পৃক্ত। তারা স্বাস্থসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু এ পেশায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং অবহেলিত রয়েছে বছরের পর বছর।
তারা আরো বলেন, ডিপ্লোমা কোর্সধারীরা এরই মধ্যে ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হলেও ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। দাবি আদায় না হলে আগামী ৩ ডিসেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতিতে ভোগান্তিতে পড়ে রোগীরা। সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের পূর্ব ঘোষিত দুই ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালিত হয়। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ নেয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সেবা নিতে আসা স্থানীয়দের দাবি, সরকারের উচিত দ্রুত দাবি মেনে নেয়া।
কর্মসূচিতে উপজেলা ও উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা অংশ নেন।
কর্মবিরতির কারণে প্যাথলজি, রেডিওলজি, ডেন্টাল, ফার্মেসি ও ফিজিওথেরাপি সেবা মারাত্নকভাবে বিঘ্নিত হয়। লম্বা সারিতে রোগীরা এসব সেবা নেয়ার জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।
তবে সার্বিক পরিবেশ ছিল শান্ত ও সুশৃঙ্খল। কর্মসূচির কারণে কিছু ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও জরুরি সেবা পূর্বের মতোই সচল ছিল।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা বলেন, এক বছর ধরে আবেদন, স্মারকলিপি, বৈঠক, যুক্তি-তথ্য-পরিসংখ্যানসহ সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও তাদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে। টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের অভিমত, দেশের স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরে— ইউনিয়ন পর্যায়ের ছোট কেন্দ্র থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল পর্যন্ত তাদের কর্মযজ্ঞ চিকিৎসাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তবুও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্য তাদের বাধ্য করেছে কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচিতে শামিল হতে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন— ফার্মাসিস্ট আব্দুল লতিফ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্যাথলজি বিভাগের ল্যাব ইনচার্জ ওবায়দুর রহমান ও বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পক্ষে আল আমিন রাসেল।
সহযোগিতায় ছিলেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ শিবগঞ্জ উপজেলার সমন্বয়ক আসাদুজ্জামান এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাব ও ফার্মাসিস্টদের পক্ষ থেকে বিরাজ কুমার।
ভোলাহাট প্রতিনিধি : ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছে। এতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়।
সকাল থেকেই ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মবিরতির কারণে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা কাজ বন্ধ রাখেন। এতে সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনরত ফার্মাসিস্ট মো. মহসিন আলী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. জাকির হোসেন, ফার্মাসিস্ট মো. সারোয়ার জামিল, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আবু সাইয়িদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তা বাস্তবায়নে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।
নাচোল প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা রবিবার সকাল ৯টা হতে বেলা ১১টা পর্যন্ত নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ কর্মবিরতি পালন করেন।
কর্মবিরতি চলাকালে বক্তব্য দেন— হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ মো. মেসবা উদ্দিন, সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. মাসুদ করিম, সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. মুক্তার হোসেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. সাইরুল ইসলাম, মো. আসমাউল, ফার্মাসিস্ট মো. তরিকুল ইসলাম, মো. শামসুজ্জোহাসহ অন্যরা।