টিকে থাকুক রেডিও মহানন্দা
মেহেদি হাসান

রেডিও মহানন্দা “জীবনের কথা জীবনের সুর”— এ স্লোগানকে ধারণ করে ১৪ পেরিয়ে ১৫ বছরে পদার্পণ করছে আজ। রেডিও মহানন্দার এই স্লোগান জীবনের নানা দিক এবং সুরকে ফুটিয়ে তোলার ইঙ্গিত দেয়। রেডিওটির লক্ষ্য হলো— বাংলাদেশের নিজস্ব গান, সংস্কৃতি ও ভাষাকে তুলে ধরা। সেই সাথে সম্প্রচার করে নানা ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, সচেতনতামূলক টক শো, আড্ডা, স্থানীয় খবর এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বলা যায়, রেডিও মহানন্দা শুরু থেকেই কাজ করছে তৃণমূলের মানুষের জন্য।
তৃণমূলের মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে রেডিও মহানন্দা। যেমন— বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কমিউনিটি শো, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, টক শো, মানব পাচার রোধে সচেতনতামূলক নাটিকা-টক শো, স্থানীয় দৈনন্দিনের ঘটনাবলি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন, আঞ্চলিক গান, বিভিন্ন কথামালা, সচেতনতামূলক গম্ভীরা, নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা, হাত ধোয়া ব্যবস্থাপনা, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি।
রেডিও মহানন্দা এমন একটি গণমাধ্যম, যা দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিজেদের কথা সরাসরি বলার সুযোগ করে দেয়। তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।
তবে কমিউনিটি রেডিওগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট বাড়িয়ে নতুন নতুন প্রোগ্রাম বাড়ানো হলে সেখানে কর্মরত কর্মীদের সুবিধা বাড়বে, বাড়বে কাজের গতি বলে মনে করি।
তবে আশার আলো রেডিও এখন আর রেডিওতে সীমাবদ্ধ নেই। শ্রোতারা রেডিও শোনেন, তবে রেডিওতে নয় মুঠোফোনে। রেডিও এখন দেখারও বটে। ফেসবুকে রেডিও দেখা যাচ্ছে টেলিভিশনের মতোই। কোনো কোনো রেডিওর রয়েছে ইউটিউব চ্যানেলও।
নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা কিছুটা জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে রেডিওর। এরপরও সংকটে রয়েছে এই খাত। এর মধ্যেই সম্ভাবনার নিবু নিবু বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে সারাদেশে গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা ১৮টি কমিউনিটি রেডিও। দেশে এখন চারটি ধারায় রেডিওর সম্প্রচার হয়ে থাকে। এগুলো হলো— সরকারি রেডিও, আন্তর্জাতিক রেডিও, বাণিজ্যিক রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও। বাংলাদেশ বেতার ১৪টি আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র এবং ৩৫টি এফএম পরিচালনা করছে। আর অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রাইভেট এফএম রেডিওর সংখ্যা ২৮টি। এর মধ্যে ২২টি সম্প্রচারে এসেছিল। একটি পরে বন্ধ হয়ে যায়। কমিউনিটি রেডিও অনুমোদন পেয়েছে ৩২টি। এখন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে ১৮টি। এর বাইরে সীমিতভাবে কয়েকটি ইন্টারনেট রেডিও চালু আছে।
তথ্য মন্ত্রণালয় ২০০৮ সালে প্রথম কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা জারি করে। ওই নীতিমালায় কমিউনিটি রেডিওর বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি ছিল না। তারপরও নীতিমালা ভেঙে কিছু কিছু কমিউনিটি রেডিও বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হলে টিকে থাকার স্বার্থে মন্ত্রণালয় নীতিমালা সংশোধন করে। ৯ বছর পর ২০১৭ সালে জারি হয় কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা (সংশোধিত) নীতিমালা। এতে কমিউনিটি রেডিওগুলোকে মোট অনুষ্ঠান সময়ের ১০ শতাংশ সময়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়। কমিউনিটি রেডিও গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা তাদের নিজস্ব ভাষায়, নিজস্ব সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে।
আমি চাই, রেডিও মহানন্দাসহ দেশের সকল কমিউনিটি রেডিওগুলো টিকে থাক। দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করুক।
মেহেদি হাসান : সাধারণ সম্পাদক, সিটি প্রেস ক্লাব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ