শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইউক্রেনের সঙ্গে ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশ

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করলেও এখনও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় তিন দেশের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি করছে ইউক্রেন। এ তথ্য জানিয়েছে কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শনিবার কাতারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আগে সৌদি আরব সফরে গিয়ে রিয়াদের সঙ্গে আরেকটি চুক্তি করেন তিনি। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে খুব শিগগিরই আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে বলে কাতার সফরকালে জানান জেলেনস্কি।

তিনি বলেন, ‘প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে অস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রের উৎপাদন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং এমন দুষ্প্রাপ্য সম্পদের আদান-প্রদান, যা একটি দেশের কাছে আছে কিন্তু অন্য দেশের কাছে নেই।’ তিনি আরও জানান, ১০ বছর ধরে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদনে অংশ নেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। ইউক্রেন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি খাত নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এমন বিষয় মাথায় রেখে তিন দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

চুক্তিগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইউক্রেনের সক্ষমতা শুধু ড্রোন উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। এতে রয়েছে রুশ বিমান হামলা প্রতিহত করার চার বছরের অভিজ্ঞতা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থাও।’ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার পর তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে ইউক্রেনের সহায়তা চান উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিমান অভিযানে মনোযোগ বাড়াচ্ছে, ফলে ইউক্রেনের জন্য সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করার চেষ্টা করছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের সেনারা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানের আকাশ হামলা থেকে রক্ষায় সহায়তা করছে। এছাড়া এই ১০ বছর মেয়াদি অংশীদারিত্বের আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ইউক্রেনের সঙ্গে উচ্চমানের সম্পর্ক চান, তবে শুধু ড্রোন নয়-আমাদের বিশেষজ্ঞদেরও প্রয়োজন। আর সেই বিশেষজ্ঞরাই হচ্ছেন আমাদের সৈনিক।’

শেয়ার করুন