শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল
ভিড় বাড়ছে হাম শ্বাসকষ্ট ডায়রিয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম, শ্বাসকষ্টের সংক্রমণ, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সবমিলিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯৩ জন রোগী ভর্তি আছেন বলে খোদ তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ২৭ জন শিশু। তাদের মধ্যে ছেলে ১৯ জন ছেলে ও মেয়ে ৮ জন। এর আগের দিন ভর্তি ছিল ৭৪ জন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন ছেলে ও ২৯ জন মেয়ে ছিল। তাদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায় ১৩ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৭৭ জন রোগী ভর্তি আছে।
সূত্রটি আরো জানায়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৯৩ জন রোগী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ঢাকার মহাখালীতে হাম সন্দেহে দুই শতাধিক রোগীর স্যাম্পল পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩১ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এই ৩১ জনের মধ্যে ১৫ জন পজিটিভ। তিনি আরো জানান, আগামী মে মাসের মধ্যে হামের টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে। আগে ৯ মাসে একবার ও ১৫ মাসে দ্বিতীয়বার দেয়া হতো। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় এবার ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের হামের টিকা দেয়া হবে।
অন্যদিকে হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ছিল ৩০ জন নবজাতক। নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৭ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায় ১২ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি আছে ২৫ জন নবজাতক।
অপরদিকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী রয়েছেন।
এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ব্যবস্থা চালু না থাকায় কোনো রোগীর অবস্থা খারাপ হলেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড, নবজাতক ওয়ার্ড ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ডে শিশু রোগীরা গিজ গিজ করছে। সাথে তাদের স্বজনরা থাকায় ওয়ার্ডগুলোর পরিবশে কেমন যেন ভ্যাপসা হয়ে উঠেছে।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগী দেখার সময় কথা হয় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রেজাউল করিমের সঙ্গে। তিনি বলেন— যেসব শিশুরা টিকা নেয়নি তাদের মধ্যেই হামের এই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
এদিকে সিভিল সার্জন অফিসের ডায়রিয়া বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৫৫ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। শুধু জেলা হাসপাতালেই ভর্তি আছেন ৬৭ জন রোগী।
প্রসঙ্গত, হামের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে— প্রথমে জ্বর হয় ও শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে বা হালকা ব্যথা লাগে। প্রথম এক-দুই দিন তীব্র জ্বরও হতে পারে। চোখ-মুখ ফুলে উঠতে পারে। চোখ লাল হয়ে যেতে পারে, চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে এবং হাঁচিও হতে পারে। শরীরে ছোট ছোট লালচে গুটি/ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং দ্রুতই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সময় বিশেষত শিশুরা কিছুই খেতে চায় না এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

শেয়ার করুন