শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পাম্পগুলোতে অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু

প্রথম দিনই শাস্তি পেলেন ২ গ্রাহক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম ও কালোবাজারি রোধে অ্যাপসভিত্তিক নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন।
জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও এই অ্যাপসের মাধ্যমেই তেলা সরাবরাহ দেয়া হবে। তবে প্রথম দিনই শিবগঞ্জে দ্বিতীয়বার তেল নিতে গিয়ে শাস্তির মুখে পড়েছেন ২ জন গ্রাহক।
বুধবার সকাল থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অ্যাপসের মাধ্যমে তেল দেয়া আরম্ভ হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় এখন থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।
প্রশাসন ও পাম্পমালিকদের প্রত্যাশা, এই আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে সাধারণ গ্রাহকরা যেমন সহজে সেবা পাবেন, তেমনি জ্বালানি খাতে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে আসবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে তেল সংগ্রহের সময় প্রত্যেক মোটরসাইকেল চালককে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সঙ্গে রাখতে হবে। পাম্পে তেল নেয়ার সময় অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের নথিপত্র যাচাই করা হবে, নথিপত্রবিহীন কোনো বাইকে তেল সরবরাহ করা হবে না। প্রতিটি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিপরীতে গৃহীত তেলের পরিমাণ একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে এবং একবার তেল নেয়ার পর পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে জেলার অন্য কোনো পাম্প থেকে ওই ব্যক্তি তেল নিতে পারবেন না। যদি কোনো চালক এই সময়ের মধ্যে পুনরায় তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেন, তবে অ্যাপের মাধ্যমে ওই বাইকটিকে ‘ব্লক’ করে দেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সদর ও শিবগঞ্জের বিভিন্ন পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলে তেল নেয়ার গ্রাহকদের লাইন অন্যান্য দিনের থেকে কিছুটা ছোট। অ্যাপসের মাধ্যমে তেল দেয়ার কারণে সময় কম লাগছে। তবে ম্যানুয়ালি জ্বালানি গ্রহীতাদের কাগজ যাচাই করতে গিয়ে সময় একটু বেশি লাগছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তৌফিক আজিজ বলেন, বুধবার থেকে পর্যায়ক্রমে তেল বিতরণ করা শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টায় মেসার্স মির্জা ফিলিং স্টেশন, সকাল ৯টায় মেসার্স রাকিব অ্যান্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন, সকাল ১০টায় মেসার্স সুমন ফিলিং স্টেশন এবং বেলা ১১টায় মেসার্স কেয়া ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সব সচেতন নাগরিককে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া পেট্রোল পাম্পে না আসতে এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে প্রথম দিনই অ্যাপসের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার তেল নিতে গিয়ে শাস্তি পেয়েছেন ২ গ্রাহক। বুধবার দুপুরে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটের একটি পাম্পে এ শাস্তি দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। এদের মধ্যে কানসাট ইউনিযনের বিশ্বনাথপুর গ্রামের ইসমাঈলের ছেলে নিশান আলীকে ২০০ টাকা জরিমানা ও ২০ দিন কোনো পাম্প থেকে তেল গ্রহণ করতে না পারে সেজন্যে অ্যাপস ব্লক করে দেয়া হয়। অপরজনকেও ২০ দিন তেল গ্রহণ করতে না পারে সেজন্য অ্যাপস ব্লক করে শাস্তি দেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তৌফিক আজিজ। তিনি জানান, অ্যাপসের কারণে যাদের প্রকৃতপক্ষে তেলের দরকার তারা তেল পাবেন এবং যারা অসৎ উদ্দেশ্যে তেল সংগ্রহ করতে আসবেন তারা এভাবে শাস্তির আওতায় পড়বেন।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে অ্যাপসের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টায় রহনপুরস্থ মেসার্স লতিফুর রহমান ফিলিং স্টেশনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকির মুন্সী।
ওই ফিলিং স্টেশনে উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন— গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম, ট্যাগ অফিসার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম ও সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফ প্রাং, ফিলিং স্টেশনের মালিক বাবুসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী জানান, এখন থেকে যত্রতত্র তেল কেনার সুযোগ থাকছে না।
উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী রহনপুর খয়রাবাদে মেসার্স রায়হান ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন— পাম্পের মালিক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন আলিম ও ট্যাগ অফিসার উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার সিরাজুল ইসলাম।
এরপর তিনি উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। জাকির মুন্সী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনবিহীন কোনো মোটরবাইক নিয়ে পাম্পে আসা যাবে না।

শেয়ার করুন