শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করল ফিনল্যান্ড

রাশিয়ার সঙ্গে স্থল সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে নর্ডিক দেশ ফিনল্যান্ড। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সেই সঙ্গে কয়েকটি সমুদ্রবন্দর দিয়েও রাশিয়ার সঙ্গে যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর প্রতিবেশী এ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইউক্রেনে হামলা শুরু হওয়ার পর রাশিয়া থেকে বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে সিরিয়া ও সোমালিয়ার শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী সীমান্ত দিয়ে ফিনল্যান্ডে প্রবেশ করেছে। ফিনল্যান্ডের অভিযোগ, শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফিনল্যান্ডে ঠেলে দিচ্ছে মস্কো। এমন অভিযোগের পর গত বছরের শেষ দিক থেকে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় ফিনল্যান্ড। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন।

ফিনিশ সরকারের তথ্যমতে, গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে ইয়েমেন, সোমালিয়া ও সিরিয়ার এক হাজার ৩০০ আশ্রয়প্রার্থী ফিনল্যান্ডে প্রবেশ করেছে। তার আগে সাধারণত প্রতিদিন গড়ে একজন আশ্রয়প্রার্থী এই সীমান্ত দিয়ে ফিনল্যান্ডে প্রবেশ করত। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারি রান্টানেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সরকার এটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি হিসেবে দেখতে পাচ্ছে। চলতি বসন্তে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে আমরা ধরে নেব পরিস্থিতির অর্থবহ কোনো পরিবর্তন এসেছে। ’এদিকে সীমান্ত বন্ধ থাকার পরও রাশিয়া থেকে আশ্রয়প্রার্থীরা ফিনল্যান্ডে প্রবেশ করছে। ফিনিশ সরকারের ধারণা, এই বসন্তে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন বাড়তে থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফিনল্যান্ডের সীমান্তবর্তী রাশিয়ার অঞ্চলে শত শত এবং সম্ভবত হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী রয়েছে, যাদেরকে মস্কো ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে।’ তাঁর মতে, রাশিয়া এভাবে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাঠিয়ে ফিনল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ইউক্রেনকে সহযোগিতা করার কারণে চাপ তৈরি করতে চায়। সীমান্ত দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের এমন প্রবেশ ঠেকাতে বেশ কয়েক মাস ধরেই চেষ্টা করছে ফিনিশ সরকার। গত মাসে সীমান্তরক্ষীরা যেন রাশিয়া থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের আটকে দিতে পারে সেই ক্ষমতা দিয়ে একটি আইন পাসের পরিকল্পনার কথা জানায় দেশটির সরকার। সূত্র : ইনফোমাইগ্রেন্টস/রয়টার্স

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *