শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাশিয়াকে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য কয়েকশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে ইরান। বেশ কিছু সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক গভীর হয়েছে। খবর রয়টার্স। ইরানের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার কাছে সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে অধিকাংশই ফাত্তাহ-১১০ সিরিজের স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ৩০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক বিপ্লবী গার্ড যদিও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করছে।

ইরানের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম চালান রাশিয়ায় যায় জানুয়ারিতে। এর আগে দেশ দুটির মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি সই হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত চারটি চালান সম্পন্ন হয়েছে। বাকি চালান শিগিগর রাশিয়ায় পৌঁছাবে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর আগে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে, যা মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে ইরান জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে মস্কোকে কিছু ড্রোন সরবরাহ করা হয়েছিল। রাশিয়ায় উৎপাদনে জটিলতা ও কম দামে পাওয়ার কারণে উত্তর কোরিয়ার পর এখন ইরান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে রাশিয়া।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সফলতার পর মস্কো এই পথেই বেশি এগুচ্ছে। তবে উত্তর কোরিয়ার চেয়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে বেশি নজর রাশিয়ার। কারণ উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কেনা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ২৪টির মধ্যে মাত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল। তাই এবার উত্তর কোরিয়াকে বাদ দিয়ে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে রাশিয়া। এ বিষয়ে ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, ইরান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ এবং অন্য যে কোনো দেশে আমরা অস্ত্র রপ্তানি করতেই পারি।

সামনের সপ্তাহগুলোতে আমরা রাশিয়ায় আরও চালান পাঠাব। এটা আর গোপন রাখার কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, এ পর্যন্ত রাশিয়ায় প্রায় ৪০০ ‘জুলফিকার’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে ইরান। ফাতেহ-১১০ সিরিজের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সর্বোচ্চ ৭০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *